অর্থনীতি বার্তা | স্পোর্টস ডেস্ক
৫০৯ রানের পাহাড়সম লক্ষ্যের নিচে চাপা পড়ে ধুঁকছে আয়ারল্যান্ড। মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে চালকের আসনে বাংলাদেশ। স্পিন আর পেসের সম্মিলিত আক্রমণে সফরকারীদের কোণঠাসা করে সিরিজ জয়ের একদম দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। জয়ের জন্য শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন আর মাত্র ৪টি উইকেট।
চতুর্থ দিনের শেষ সেশনটি ছিল পুরোপুরি স্বাগতিকদের দখলে। ২৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে তৃতীয় সেশন শুরু করা আয়ারল্যান্ড দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগেই হারিয়েছে আরও ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণি আর হাসান মুরাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে আইরিশ ব্যাটিং লাইনআপ। তাইজুল প্রথম ইনিংসে সাকিবের ২৪৬ উইকেটের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন। চতুর্থ ইনিংসে এরইমধ্যে ৩ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ এই টেস্টে তার শিকার এখন পর্যন্ত ৭ উইকেট।
তাইজুলের ঘূর্ণিজাদুর মাঝে একপ্রান্তে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন হ্যারি টেক্টর। ৮০ বলে ৭টি চারের মারে ফিফটি তুলে নেন তিনি। তবে অর্ধশতক পূরণের পরই আগ্রাসী হতে গিয়ে হাসান মুরাদের বলে মুশফিকুর রহিমের দুর্দান্ত এক ক্যাচে পরিণত হন। এছাড়া আয়ারল্যান্ডের নির্ভরতার প্রতীক স্টিফেন ডোহানি (১৫) তাইজুলের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন এবং লরকান টাকার (৭) সাজঘরে ফেরেন পেসার খালেদ আহমেদের শিকার হয়ে।
ধ্বংসস্তূপের মাঝে আয়ারল্যান্ডের হয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কার্টিস ক্যাম্পার। দেখেশুনে খেলে ৯৩ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন ১১ রান করা অ্যান্ডি ম্যাকবার্নি।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তাইজুল ইসলাম সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট শিকার করেছেন। এছাড়া হাসান মুরাদ ২টি ও খালেদ আহমেদ ১টি উইকেট নিয়েছেন।
চতুর্থ দিন শেষে আয়ারল্যান্ডের সামনে জয়ের সমীকরণ এখনো ৩৩৩ রানের, যা আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব। হাতে মাত্র ৪ উইকেট নিয়ে পঞ্চম দিনের সকালে তারা কতক্ষণ টিকতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। আর বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি জেতাই স্বাভাবিক ফল। যে জয়ের মাধ্যমে মুশফিককে শততম টেস্টে জয় উপহার দিতে চাইবে টাইগাররা।
এরইমধ্যে শততম টেস্টে সেঞ্চুরি ও ফিফটি হাঁকিয়ে ইতিহাসে পা দিয়েছেন মুশি। ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে শততম টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি ও পঞ্চাশের বেশি রান করেছেন। এর আগে এমন কীর্তি গড়েছেন কেবল রিকি পন্টিং। এই অজি কিংবদন্তি আবার দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন, যে কীর্তিতে তিনিই প্রথম ও একমাত্র।
