অনলাইন ডেস্ক | অর্থনীতি বার্তা
শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) সেবা উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মশালা আয়োজন করেছে WaterAid Bangladesh। গতকাল রাজধানীতে Embassy of Sweden in Dhaka-এর সহায়তায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘ওয়াশ ফর আরবান পুওর’ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের অর্জন, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় জানানো হয়, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বাস্তবায়িত প্রকল্পটির বিভিন্ন সাফল্য, শেখার বিষয় এবং বাস্তবায়নের সময় উদ্ভূত চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতও উপস্থাপন করা হয়। প্রকল্পের শুরু ও শেষ সময়ের ফলাফল তুলনা করে শহরের দরিদ্র মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু সহনশীল পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি সেবা কীভাবে টেকসই করা যায় এবং আরও বিস্তৃত করা যায়—সে বিষয়েও আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের নীতিসহায়তা শাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মজুমদার সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, কর্মশালায় উত্থাপিত বিষয়গুলো নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় বিবেচনায় নেওয়া হবে এবং বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ সময় ঢাকায় অবস্থিত সুইডেন দূতাবাসের পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রথম সচিব ও উন্নয়ন সহযোগিতার উপপ্রধান নায়োকা মার্টিনেজ ব্যাকস্ট্রম এবং Dhaka North City Corporation-এর প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন উল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
নায়োকা মার্টিনেজ ব্যাকস্ট্রম বলেন, ওয়াটারএইডের সঙ্গে সুইডেনের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব রয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সহজলভ্য, মানসম্মত ও টেকসই পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি সেবা নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, ওয়াশ খাতকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই; এ খাতের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় জড়িত এবং সব উপাদান একসঙ্গে কাজ করলেই এটি কার্যকরভাবে এগিয়ে যেতে পারে।
মোহাম্মদ মামুন উল হাসান বলেন, অবকাঠামো ও সেবা চালু রাখার পাশাপাশি স্থানীয় নাগরিকদের প্রতিও দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওয়াটারএইড নগর উন্নয়নে যে অবদান রাখছে তার পরিধি ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব ও সমাপনী বক্তব্য দেন হাসিন জাহান, কান্ট্রি ডিরেক্টর, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ওয়াটারএইডের কার্যক্রম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শিক্ষা অধিদপ্তর নিজস্ব অর্থায়নে বিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত আচরণ গড়ে তুলতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য যৌথ গবেষণা পরিচালনা জরুরি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের ব্যবসা উন্নয়ন ও গুণগত মান তদারকি পরিচালক আজমান আহমেদ চৌধুরী। তিনি নগর এলাকায় পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সমাজের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এরপর প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কর্মসূচি ও নীতিগত সহায়তা বিভাগের পরিচালক পার্থ হেফাজ শেখ। পরে উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব পরিচালনা করেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের নীতি ও সহায়তা বিভাগের প্রধান ফয়জউদ্দীন আহমদ।
কর্মশালায় নীতিনির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা, দাতা সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, গবেষক, খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
—বিজ্ঞপ্তি।
