অনলাইন ডেস্ক | অর্থনীতি বার্তা
পবিত্র Eid al-Fitrকে সামনে রেখে দেশের সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস দ্রুত পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী Ariful Haque Chowdhury। তিনি বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই যেন শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি না হয় এবং ঈদের আগেই তাদের সকল বেতন-বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।
গতকাল (১৩ মার্চ) Dhakaর Bailey Road এলাকায় অবস্থিত শ্রমমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের অফিস কক্ষে আরএমজি ও নন-আরএমজি খাতে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে করণীয় নির্ধারণে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় মন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন সংসদীয় এলাকাভিত্তিক ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পকারখানার একটি তালিকা প্রস্তুত করা হবে এবং তা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সংসদ সদস্যরা সরাসরি কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস দ্রুত পরিশোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কিছু ব্যাংক শিল্পকারখানার মালিকদের প্রয়োজনীয় ঋণ দিতে গড়িমসি করছে। বিশেষ করে United Commercial Bank PLC, Trust Bank PLC এবং Premier Bank PLCসহ কয়েকটি ব্যাংকের বিষয়ে দ্রুত যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ঋণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, কিছু শ্রমিক নেতা শ্রমিকদের অহেতুক উত্তেজিত করে শিল্পখাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে পলাতক মালিক ও তাদের প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, এসব কারখানায় যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সভায় উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা Mahdi Amin বলেন, সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
এ সময় তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association (বিজিএমইএ)-এর সভাপতি Mahmud Hasan Khan জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বর্তমানে ২১২৭টি কারখানা চালু রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৬৪টি কারখানা (৯২.৩৪ শতাংশ) ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে এবং ১৫৩৫টি কারখানা (৭২.১৭ শতাংশ) ঈদের বোনাস দিয়েছে। তিনি বলেন, মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ বাধ্যতামূলক নয়, তবে যেসব কারখানার সক্ষমতা রয়েছে তারা তা প্রদান করছে।
অন্যদিকে নিটওয়্যার শিল্প মালিকদের সংগঠন Bangladesh Knitwear Manufacturers and Exporters Association (বিকেএমইএ)-এর সভাপতি Mohammad Hatem বলেন, দেশের ৮৩৪টি কারখানার মধ্যে ৫১২টি কারখানা ইতোমধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে এবং ৬০৪টি কারখানা ঈদের বোনাস প্রদান করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অধিকাংশ কারখানা বেতন-বোনাস পরিশোধ করায় বড় ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই।
সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব Md. Abdur Rahman Tarafdar বলেন, আপদকালীন একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা গেলে সেই অর্থ ব্যবহার করে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সংক্রান্ত সমস্যা দীর্ঘমেয়াদে সমাধান করা সম্ভব হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন Dr. Dewan Md. Salauddin, Md. Tamiz Uddinসহ Gazipur জেলার সংসদ সদস্যরা— Md. Mujibur Rahman, M Manzurul Karim Roni, SM Rafiqul Islam এবং Fazlul Haque Milonসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
