অর্থনীতি বার্তা | অনলাইন ডেস্ক
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে-বিদেশে ভূমিকম্পের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভূকম্পন ভূ-তাত্ত্বিকভাবে স্বাভাবিক হলেও ইসলামের আলোকে এ বিষয়ে বিশেষ কিছু নির্দেশনা পাওয়া যায়। ধর্মীয় গবেষকদের মতে, ভূমিকম্প মানুষের জন্য সতর্কতা, শিক্ষা ও আত্মবিশ্লেষণের অন্যতম মাধ্যম।
ইসলামী বিশেষজ্ঞরা বলেন, আল্লাহ পৃথিবীর প্রতিটি ঘটনা তাঁর ইলম ও কুদরতের মাধ্যমে পরিচালনা করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগও তার ব্যতিক্রম নয়। কুরআনে বলা হয়েছে—
“আর অবশ্যই আমি তোমাদেরকে ভয়, ক্ষুধা ও ধনসম্পদের ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করবো।” (সূরা বাকারা ১৫৫)
এদিকে হাদিসের বর্ণনায় পাওয়া যায়, কোনো সমাজে অন্যায়, জুলুম ও গুনাহ বৃদ্ধি পেলে আল্লাহ তাদেরকে বিভিন্ন বিপদ ও দুর্যোগের মাধ্যমে সতর্ক করেন। তবে ইসলাম ভূমিকম্পকে সবসময় শাস্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করে না; বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি বিশ্বাসীদের জন্য পরীক্ষা (ইবতিলা)।
আলেমরা মনে করেন, ভূমিকম্পের মতো ঘটনায় আতঙ্কিত না হয়ে মুসলমানদের উচিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া, তওবা করা এবং ইস্তিগফার পড়া। পাশাপাশি মানবিক সহায়তায় এগিয়ে যাওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সহিহ হাদিস অনুযায়ী— কিয়ামতের নিকটবর্তী হওয়ার একটি আলামত হলো ভূমিকম্পের সংখ্যা বৃদ্ধি।
ধর্মীয় গবেষকদের ভাষ্য, ভূমিকম্প মানুষের শক্তির সীমা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং আল্লাহর ক্ষমতার সামনে সবাই সমানভাবে অসহায়। তাই প্রত্যেক বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নেওয়া ও আত্মসমালোচনায় ফেরা একজন মুসলমানের জন্য অপরিহার্য।
জনসাধারণকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা মেনে চলার পাশাপাশি সৃষ্টিকর্তার প্রতি আরও বিনয়ী ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
