ধর্ম ডেস্ক | অর্থনীতি বার্তা
পবিত্র মহররম ও আশুরা উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে কারবালার শোক, ত্যাগ ও সত্যের চেতনা স্মরণ করা হচ্ছে। এ সময় বিভিন্ন মাহফিল, মজলিস ও শোকানুষ্ঠানে পরিবেশিত হচ্ছে কারবালাকেন্দ্রিক কালাম ও নাত। এর মধ্যে “মুঝে কুফা ওয়ালো, মুসাফির না সামঝো, ম্যায় আয়া নেহি হুঁ, বুলায়া গয়া হুঁ” শীর্ষক কালামটি বিশেষভাবে শ্রোতাদের হৃদয় স্পর্শ করছে।
কালামটিতে কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আত্মত্যাগ, তাঁর ওপর নেমে আসা নির্মম নির্যাতন এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এতে কুফাবাসীদের প্রতি প্রতীকী ভাষায় বলা হয়েছে, তিনি নিজ ইচ্ছায় আসেননি; বরং আহ্বান পেয়ে এসেছিলেন। কিন্তু অতিথি হিসেবে ডেকে এনে তাঁকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর পরিবার-পরিজনকে অকথ্য দুর্ভোগের মুখোমুখি করা হয়েছে।
কালামের বিভিন্ন অংশে কারবালার তৃষ্ণার্ত শিশু, আহলে বাইতের কষ্ট এবং ৭২ জন শহীদের আত্মত্যাগের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। একই সঙ্গে এতে শাহাদাতকে পরাজয় নয়, বরং মহান সফলতা ও চিরজীবনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কালাম শুধু শোক প্রকাশের মাধ্যম নয়; বরং সত্য, ন্যায়, মানবতা ও আত্মত্যাগের শিক্ষাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়। কারবালার ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
মাহররমের এ সময়ে কালামটি বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়ে মুসলিম উম্মাহকে কারবালার শিক্ষা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে—সত্য ও ন্যায়ের জন্য ত্যাগ কখনও বৃথা যায় না।
