অর্থনীতি বার্তা | অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাট থানা এলাকায় গৃহবধূ তাহিয়া মান্নান ওরফে রাইসা (২৩) এর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। মামলার তদন্তভার এখন অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর হাতে ন্যস্ত হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
পুলিশের দাখিল করা চার্জশিটে ঘটনাটিকে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নয় নিহতের পরিবার। তারা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে আদালতে নারাজীর আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নিহতের বাবা আবদুল মান্নান অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই রাইসার ওপর তার স্বামী নুর সালেকিন তওসিফসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।
তিনি শাশুড়ি দিলু আরা বেগম, শ্বশুর আয়াজ বাহাদুর এবং জা রোমানা আক্তারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন।
পরিবারের দাবি, ঘটনার আগের রাতে রাইসা শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। পরদিন হঠাৎ তাকে আত্মহত্যা করেছে বলে জানানো হয়। তবে হাসপাতালে মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ও হাতের আঙুল ভাঙা অবস্থায় দেখা গেছে, যা আত্মহত্যার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তারা দাবি করছেন।
তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে—সিসিটিভি ফুটেজ থাকার কথা বলা হলেও পরে তা ‘ডিলিট’ হওয়ার দাবি, দরজা ভাঙা না অক্ষত ছিল—এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য, চার্জশিটে দরজা ভেঙে উদ্ধারের কথা উল্লেখ— এসব বিষয় তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং প্রভাবশালী মহলের চাপে মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। যদিও প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্তে মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হয়েছিল, চূড়ান্তভাবে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’র অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও ন্যায়বিচারের দাবিতে পরিবার নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত চায়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সিআইডির তদন্তে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে। এখন সবার দৃষ্টি আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।
