আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ওয়াশিংটন
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মিত্র দেশগুলোর কাছে প্রায় ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অস্ত্র বিক্রির জরুরি অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ব্লুমবার্গ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসের প্রচলিত পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এড়িয়ে জরুরিভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মূল লক্ষ্য—মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা এবং মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে থাকায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
অস্ত্র চুক্তির প্রধান দিকগুলো
ইসরায়েল পাবে প্রায় ৯৯২.৪ মিলিয়ন ডলারের ১০ হাজার ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম-২’
কাতার-কেও একই পরিমাণ অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহ
কাতারের জন্য ৪.০১ বিলিয়ন ডলারের ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা (PAC-2 ও PAC-3)
সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর জন্য ১৪৭.৬ মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম
কুয়েত-এর জন্য ২.৫ বিলিয়ন ডলারের ‘ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটেল কমান্ড সিস্টেম’
এই চুক্তিগুলোর প্রধান ঠিকাদার হিসেবে রয়েছে নর্থরোপ গ্রাম্যান, আরটিএক্স এবং লকহিড মার্টিন-এর মতো শীর্ষ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান।
মার্কো রুবিও প্রতিটি বিক্রির ক্ষেত্রে ‘জরুরি অবস্থা’ উল্লেখ করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত এ ধরনের চুক্তির ক্ষেত্রে কংগ্রেসের দীর্ঘ পর্যালোচনা প্রয়োজন হলেও বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে এবার সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
এছাড়া ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় যেকোনো সময় নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশাল এ অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে মিত্রদের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করলেও, একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
