অর্থনীতি বার্তা | অনলাইন ডেস্ক
আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই উজ্জ্বল নক্ষত্র।
তিনি ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সংগীতজ্ঞ, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, ভাষাবিদ, চিত্রশিল্পী ও গল্পকার। মাত্র আট বছর বয়সে কবিতা লেখা শুরু করেন তিনি। জীবদ্দশায় রচনা করেন দুই হাজারেরও বেশি গান, যা আজ ‘রবীন্দ্রসংগীত’ নামে বাংলা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে।
তার অমর সৃষ্টি গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনিই প্রথম এশীয় হিসেবে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন।
বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “বাংলা সাহিত্যের মহোত্তম কণ্ঠস্বর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে তার অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণই ছিল রবীন্দ্রনাথের সৃজনশীলতার মূল অন্বেষা। কাব্য, সংগীত, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, নৃত্যনাট্য ও চিত্রকলার প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি মানুষ, মানবতা, প্রেম, প্রকৃতি ও শান্তির জয়গান গেয়েছেন অসাধারণ শৈল্পিক দক্ষতায়।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় জীবনের বহু ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের অবদান অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তার গান ছিল প্রেরণার অন্যতম উৎস। তার রচিত “আমার সোনার বাংলা” আজ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় উল্লেখ করেন, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্মে বাংলার মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ও জীবনসংগ্রাম গভীর বিশ্বস্ততার সঙ্গে উঠে এসেছে। বিশেষ করে তৎকালীন পূর্ববঙ্গ তথা বর্তমান বাংলাদেশের মানুষ ও প্রকৃতি তার সৃষ্টিশীলতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ-সংঘাত, উগ্রবাদ ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদী দর্শন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। মানুষের কল্যাণে শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শান্তিনিকেতন।
দেশজুড়ে আজ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি ও রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনের আয়োজন করা হয়েছে।
