সিলেটের যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যখাতে বড় উন্নয়ন পরিকল্পনার ঘোষণা

0 comments

অর্থনীতি বার্তা | অনলাইন ডেস্ক

সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যখাত ও নগর উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২ মে) দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত নগরভবনের এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সিলেট থেকে সড়কপথে ঢাকায় যেতে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে, অথচ সিলেট থেকে লন্ডন যেতে সময় লাগে সাড়ে ৯ ঘণ্টা। তাই সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক উন্নয়ন জরুরি।” তিনি জানান, মহাসড়ক সম্প্রসারণে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ১১টি জটিলতা ইতোমধ্যে দূর করা হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরু হবে।

সড়কের পাশাপাশি রেল যোগাযোগ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “শুধু রাস্তা বড় করলে যানজট বাড়বে এবং কৃষিজমি নষ্ট হবে। তাই ঢাকা-সিলেট রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”

তরুণদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সিলেটের আইটি পার্ক সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো আধুনিকায়নের কথাও বলেন।

নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যাবে এবং জলাবদ্ধতা কমবে। এ প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জ-সহ আশপাশের অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিত্যক্ত ২০০ শয্যার একটি হাসপাতাল দ্রুত চালুর ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া রোগ প্রতিরোধে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান, যাদের ৮০ শতাংশই নারী হবেন।

তিনি বলেন, বন্ধ কলকারখানা চালু করে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে এবং প্রয়োজন হলে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের মাধ্যমে তা সচল করা হবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সুধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী চাঁদনীঘাট এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেটে জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে।

নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নদীতে প্লাস্টিক দূষণ পরিস্থিতিকে মারাত্মক করে তুলছে। এ বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। এছাড়া বক্তব্য দেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, হুইপ জি কে গউছ এবং সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার।

যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও নগর ব্যবস্থাপনায় ঘোষিত এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সিলেট অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

You may also like

পরিচালনা পরিষদ :

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : মোঃ আরফাত ছিদ্দিকী

বাণিজ্যিক সম্পাদক: রিফাত মাহবুব সাকিব

📧 অফিসিয়াল ইমেইল : editor.arthonitibarta@gmail.com 🏢 অস্থায়ী কার্যালয়:  ৪৩/সি, মায়াকানন, ঢাকা – ১২১৪

Edtior's Picks

Latest Articles

Developed BY  Netfie.com