জামায়াত-শিবিরের সমালোচনার পর চাপে ছিলাম, একঘরে করা হয়েছিল: মাহফুজ আলম

ফেসবুক পোস্টে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপপ্রচার ও রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ; নীতিনির্ভর সংলাপের আহ্বান সাবেক উপদেষ্টার।

0 comments

অর্থনীতি বার্তা ডেস্ক

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালনকালে রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক অবস্থানের কারণে তিনি নানা ধরনের চাপ এবং একঘরে হওয়ার পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমালোচনামূলক অবস্থান নেওয়ার পর সরকারের ভেতরেও প্রতিকূল পরিবেশের সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বুধবার (১০ জুন) গভীর রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব দাবি করেন মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপপ্রচার এবং বিদ্বেষমূলক প্রচারণার শিকার হয়ে আসছেন।

মাহফুজ আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনো আন্দোলনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেননি। তারপরও বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর একটি অংশ তাকে নিয়মিতভাবে সমালোচনা ও আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, মতাদর্শগত প্রশ্নে তিনি কিছু রাজনৈতিক শক্তির সমালোচনা করেছেন, তবে সেটিকে ব্যক্তিগত শত্রুতার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তি আক্রমণ চলতে থাকায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সাবেক এই উপদেষ্টা আরও দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনকালে তার অবস্থান ও মতামতের কারণে প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিকভাবে চাপের মধ্যে থাকতে হয়েছে। নিজের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অনেক বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা থেকেও বিরত ছিলেন বলে জানান তিনি।

পোস্টে মাহফুজ আলম অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছে। এমনকি তাকে ঘিরে সহিংসতার ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য ও প্রতীকী কর্মকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তি আক্রমণের পরিবর্তে নীতিগত বিতর্ক ও মতাদর্শভিত্তিক আলোচনা জোরদারের আহ্বান জানান মাহফুজ আলম। তার মতে, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্নমতকে সম্মান জানিয়ে নীতি ও কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক হওয়া উচিত, ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিদ্বেষ নয়।

পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তি আক্রমণ, গালাগাল ও বিদ্বেষের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন। একটি উন্নত, সহনশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে নীতিনির্ভর সংলাপ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

You may also like

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়:
৪৩/সি, মায়াকানন, ঢাকা – ১২১৪

ই-মেইল
editor.arthonitibarta@gmail.com
news.arthonitibarta@gmail.com

ওয়েবসাইট
www.arthonitibarta.com

Edtior's Picks

Latest Articles

Developed BY  Netfie.com