বিনোদন ডেস্ক | অর্থনীতি বার্তা
দীর্ঘ লড়াই ও শত শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ছাত্রশিবিরের ‘কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন-২০২৫’-এর স্বাগত ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ মুনতাসির রহমান আলিফের পিতা সৈয়দ গাজিউর রহমান।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লব তরুণদের সাহসিকতা ও ত্যাগের যে শিক্ষা দিয়েছে, সেটিকে পাথেয় করেই ঘুণেধরা সমাজব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি বলেন, “ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়তে হলে নৈতিকতা ও যোগ্যতার সমন্বয় অপরিহার্য।”
বক্তব্যে তিনি ১৯৪৭ সালের আজাদি, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে শেখ হাসিনা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে মাফিয়াতন্ত্র, গুম-খুন ও তথাকথিত ‘আয়নাঘর’ ব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন।
ছাত্রশিবির সভাপতির দাবি, পরিকল্পিতভাবে সংগঠনটিকে ‘মানবিক সত্তাহীন’ করার অপচেষ্টা চালানো হলেও সত্য ও সুন্দরের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া যায়নি।
শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ব্রিটিশ আমলে প্রণীত বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা জাতিগত মুক্তি দিতে ব্যর্থ। এ প্রেক্ষাপটে ছাত্রশিবির একটি যুগোপযোগী ‘৩০ দফা শিক্ষা সংস্কার প্রস্তাবনা’ উত্থাপন করেছে, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বমানের মেধা বিকাশের কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, ব্লু ইকোনমি জোন ও প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে যোগ্য ও নৈতিক নেতৃত্ব অপরিহার্য।
সম্মেলনে ফিলিস্তিন, কাশ্মীর ও উইঘুরসহ বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
এবারের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনের স্লোগান ছিল—
‘জাহেলি আঁধার পেরিয়ে এসেছে দিন বদলের বাঁক, পৃথিবী আবার গড়তেই হবে নয়া আজাদির ডাক’।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, শহীদদের রেখে যাওয়া আমানত রক্ষা করে সমাজ থেকে জুলুম নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলমান থাকবে। সংগঠনের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি জানান, সায়েন্স ফেস্ট, রোবটিক্স ফেস্ট ও গবেষণামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রসমাজের মধ্যে ইতিবাচক ও সৃজনশীল চর্চা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে ছাত্রশিবির।
পরিশেষে তিনি একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
