অর্থনীতি বার্তা ডেস্ক
আমদানি নীতি আদেশ লঙ্ঘন করে স্ক্র্যাপ বা বর্জ্য লোহার নামে পুনঃব্যবহারযোগ্য অন্য কোনো পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নীতিমালা অমান্য করে এ ধরনের পণ্য আমদানি করা হলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের বিরুদ্ধে সরাসরি কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের কাস্টমস নীতি বিভাগের দ্বিতীয় সচিব রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ সতর্কতা জারি করা হয়। হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এ পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রচলিত আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী কেবল প্রকৃত ব্যবহারকারী হিসেবে স্বীকৃত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচামাল হিসেবে এইচএস হেডিং ৭২.০৪ এবং এর আওতাভুক্ত এইচএস কোডের অধীনে ‘ওয়েস্ট অ্যান্ড স্ক্র্যাপ’ আমদানি করতে পারবে।
তবে সম্প্রতি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে, কিছু আমদানিকারক অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে স্ক্র্যাপ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে প্রকৃতপক্ষে পুনঃব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন পণ্য আমদানি করছেন। এসব পণ্য ভিন্ন এইচএস কোডের আওতাভুক্ত হলেও স্ক্র্যাপ হিসেবে ঘোষণা করে আমদানির চেষ্টা করা হচ্ছে।
কাস্টমস বা বন্দরে এসব চালান আটকে দেওয়ার পর খালাসের জন্য সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে একাধিক রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। এর মধ্যে রিট পিটিশন নম্বর ৭৫৯৫/২০২৫ ও ৬৪০৬/২০২৫ উল্লেখযোগ্য।
রিটগুলোর শুনানি শেষে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, প্রচলিত আমদানি নীতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি ও পরিপত্র জারির জন্য এনবিআরকে মৌখিক ও লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর জানিয়েছে, আমদানি নীতি আদেশে নির্ধারিত এইচএস হেডিং ৭২.০৪-এর আওতাভুক্ত প্রকৃত ‘ওয়েস্ট অ্যান্ড স্ক্র্যাপ’ ছাড়া অন্য কোনো পুনঃব্যবহারযোগ্য পণ্য ভিন্ন এইচএস কোডের অধীনে থাকা সত্ত্বেও স্ক্র্যাপ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
এনবিআর আরও জানিয়েছে, কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ২৬৬ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এখন থেকে আমদানি নীতি লঙ্ঘন করে স্ক্র্যাপের নামে পুনঃব্যবহারযোগ্য পণ্য আমদানির ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
