অর্থনীতি বার্তা ডেস্ক
ভোজ্যতেলের উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির অভিযোগে টিকে গ্রুপের মালিকানাধীন শবনম ভেজিটেবিল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রতিযোগিতা কমিশনের সচিব মাহবুবুর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কমিশন জানায়, প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর ২০ ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এই আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। চূড়ান্ত আদেশ ঘোষণার পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি আপিল বা আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবে।
প্রতিযোগিতা কমিশনের রায়ে বলা হয়, ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত শবনম ভেজিটেবিল অয়েল উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত করে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এর ফলে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
কমিশনের মতে, এসব কার্যক্রম প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর ১৫ ধারার উপধারা (১) এবং উপধারা (২)-এর বিভিন্ন বিধান লঙ্ঘন করেছে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১১ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক নিয়োগ আদেশ অনুযায়ী সরবরাহ আদেশের (এসও) মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৫ দিন হওয়ার কথা। কিন্তু শবনম ভেজিটেবিল অয়েলের বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ সরবরাহ আদেশের ভিত্তিতে পণ্য সরবরাহের তথ্য পাওয়া গেছে, যা প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
প্রতিযোগিতা কমিশন জানায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির ঘটনায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অনুসন্ধান চালিয়ে আটটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পায়।
পরবর্তীতে প্রতিযোগিতা কমিশন তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে। অনুসন্ধানে গ্লোব এডিবল অয়েল লিমিটেড, সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, মেঘনা ও ইউনাইটেড এডিবল অয়েল লিমিটেড, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাজারে সরবরাহ সীমিত করার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়।
কমিশনের নিজস্ব তদন্ত এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শবনম ভেজিটেবিল অয়েলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
