অর্থনীতি বার্তা | অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের হার ইতিমধ্যেই ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পোল্ট্রি খাতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের হার ৭৬.৯ শতাংশ, যা সরাসরি মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, এন্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এখন দেশের স্বাস্থ্য, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, এমনকি কৃষি খাতেও গুরুতর সংকট সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রিভেন্টিভ প্র্যাকটিস, ওয়ান হেলথ সহযোগিতা এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ছাড়া অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) মোকাবিলা সম্ভব নয়। তাই অবিলম্বে সমন্বিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।
সোমবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে বিশ্ব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স সচেতনতা সপ্তাহ–২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত মাল্টি-সেক্টোরাল ওয়ান হেলথ এএমআর সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা এন্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক ব্যবহারকে ভূমিকম্পের থেকেও ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের হার ইতিমধ্যেই ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে। পোল্ট্রি খাতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের হার ৭৬.৯ শতাংশ, যা সরাসরি মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলছে।
ফরিদা আখতার আরও বলেন, শুধু মানুষের স্বাস্থ্যের কথা ভাবলেই হবে না। আমাদের এনিমেল, ফরেস্ট ও ওয়াইল্ডলাইফ হেলথ সবকিছুর সুরক্ষা দিতে হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত না হলে মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপদ থাকবে না। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিয়ে সামাজিক চাপ ও সচেতনতা তৈরি করাই রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলার অন্যতম কার্যকর উপায়।
সম্প্রতি ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনের অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, গ্লোবাল ওয়ার্মিং যত তীব্র হচ্ছে, নতুন রোগের প্রকোপ ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকিও তত বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স—দুটি বৈশ্বিক সংকট পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কিত। চ্যালেঞ্জ দুটি মোকাবিলা করতে হলে সমন্বিত ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন:
-
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান (সভাপতি)
-
এফএও বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ জিয়াওকুন
-
ডব্লিউএইচও বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদ
-
বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রতিনিধি ড. হিরোফুমি কুগিটা (রেকর্ডেড)
-
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক
-
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খায়ের আহমেদ চৌধুরী
-
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (এক্সটেনশন) ডা. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ
প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন:
-
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো: শাহীনুর আরম (প্রাণিসম্পদ খাতে এএমআর/এএমইউ-এর বর্তমান পরিস্থিতি)
-
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিডিসি-তে ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. সামছাদ রাব্বানি (মানবস্বাস্থ্য খাতে এএমআর/এএমইউ-এর বর্তমান পরিস্থিতি)
-
মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হাবিব ফরহাদ আলম (মৎস্য খাতে এএমআর/এএমইউ-এর বর্তমান পরিস্থিতি)
অনুষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি খামারি এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
