অর্থনীতি বার্তা | অনলাইন ডেস্ক
বীমা খাতের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রায় ১১০ কোটি টাকা পাওনা থাকলেও, কার কাছে এ অর্থ পাওনা রয়েছে—তা সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে পারেনি কোম্পানিটি। এ কারণে দাবি করা এ পাওনা অর্থের যথার্থতা নিশ্চিত করতে পারেননি নিরীক্ষক। কোম্পানিটির সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে মতামত দিয়েছে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ফেমস অ্যান্ড আর, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস।
নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ হিসাব বছর শেষে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মোট পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৯ কোটি ৮৩ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৩ টাকা। তবে এ অর্থ কার কাছ থেকে আদায়যোগ্য—সে বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। ফলে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যাচাই করে পাওনার পরিমাণ ও যথার্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করেছে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগের ২০২৩ হিসাব বছরেও কোম্পানিটির পাওনার পরিমাণ একই ছিল। অর্থাৎ এক বছর পার হলেও এ পাওনা অর্থ আদায় বা যাচাই সংক্রান্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ অবস্থায় কোম্পানিটির আর্থিক স্বচ্ছতা ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ২০২৪ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অতীতে কোম্পানির পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সময়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও সুশাসনের ব্যত্যয় ঘটেছিল। সে সময় এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলেও প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর) সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের জীবন বীমা তহবিল বেড়েছে ১০৪ কোটি ৮৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর ফলে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিলের আকার দাঁড়িয়েছে ৮৯৬ কোটি ৩৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৭৯১ কোটি ৫১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
তবে তহবিল বৃদ্ধির বিপরীতে আয়ের প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা চাপ দেখা গেছে। চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের জীবন বীমা দাবিসহ মোট আয় হয়েছে ৯১ কোটি ১৬ লাখ ১০ হাজার টাকা, যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৯৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় অঙ্কের পাওনা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চিত থাকা কোম্পানির আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও করপোরেট সুশাসনের জন্য উদ্বেগজনক। পাওনার উৎস ও আদায়যোগ্যতা নিশ্চিত করতে দ্রুত স্বচ্ছ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারী ও গ্রাহকদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
