কৃষি ডেস্ক | অর্থনীতি বার্তা
মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলার বোরো ধানের খেত মাজরা পোকা ও অন্যান্য রোগবালাইয়ের কবলে পড়েছে। খরার কারণে অনাবৃষ্টি ও পানির সংকটের ফলে কৃষকেরা ধানগাছ রক্ষায় কীটনাশক ছিটাচ্ছেন, তবুও কাজের পরিমাণ সীমিত হওয়ায় স্বস্তি পাচ্ছেন না। ফলে বোরো ধানের ফলন নিয়ে তাদের মধ্যে বাড়ছে চিন্তা ও হতাশা।
জেলার কৃষকরা জানান, ধানের চারা রোপণের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পোকা আক্রমণ শুরু হয়েছে। মাজরা পোকার সঙ্গে অন্য পোকা ধান গাছের ডিগ পাতা কেটে দিচ্ছে। এছাড়া ধান গাছ লাল হয়ে যাওয়ার মতো রোগবালাইও দেখা দিয়েছে।
কৃষকরা কীটনাশক প্রয়োগ করছেন:
স্থানীয় কৃষি ঘর ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। তবে সেচ খরচের পাশাপাশি অতিরিক্ত খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা চিন্তিত। যেসব জমিতে সেচ সংকটের পাশাপাশি পোকার আক্রমণ হচ্ছে, সেসব জমির ধানগাছ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কৃষকের অভিজ্ঞতা:
কমলগঞ্জের শমশেরনগর ইউনিয়নের তারিকুল ইসলাম বলেন, “আমি দুই একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। দূর থেকে সেচের ব্যবস্থা করেছি, এতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে মাজরা পোকার আক্রমণ হয়েছে। ইতিমধ্যেই একবার ওষুধ দিয়েছি, এখন আবার দিতে হবে।”
রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের শামিম আহমেদ বলেন, “মাজরা পোকা ধান গাছের ডিগ পাতা কেটে দিচ্ছে। অনাবৃষ্টি ও গরমের তীব্রতার কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর পোকা আক্রমণ বেশি। একরপ্রতি ২৫–৩০ হাজার টাকা খরচ করে যদি ধান না পাওয়া যায়, তাহলে হতাশা ছাড়া উপায় নেই।”
কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ:
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন জানান, “পোকা আক্রমণে চিন্তিত না হয়ে সঠিকভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। আমাদের মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তা আছেন, তারা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। যেসব ধান গাছের ডিগ পাতা পোকা কেটে দিয়েছে, সেগুলো আবার গজিয়ে উঠবে। আশা করা যায়, এবার আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। যদি কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটে, তাহলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে।”
