অর্থনীতি বার্তা ডেস্ক
সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার এবং প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের জানাজা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে নির্ধারিত স্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
রোববার (১২ জুলাই) সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নেওয়া হলে সেখানে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শেষ শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রপতির পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব এএসএম বাহাউদ্দিন, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, অন্যান্য হুইপ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জানাজার আগে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মরহুমের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত পাঠ করেন। পরে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন আত্মপ্রতিষ্ঠিত মানুষ। যুক্তরাজ্য থেকে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করে দেশে ফিরে তিনি আইন ও রাজনীতিতে অনন্য অবদান রাখেন। গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রশ্নে তিনি সবসময় আপসহীন ছিলেন।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন দেশের আইনাঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। রাজনৈতিক সংকটের সময় তিনি অনেক নেতার পক্ষে আদালতে বিনা পারিশ্রমিকে আইনি লড়াই করেছেন। স্পিকার হিসেবে তিনি সংসদের কার্যক্রমকে প্রাণবন্ত ও কার্যকর রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন মার্জিত, সজ্জন ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর কর্মময় জীবন নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে দেশ একজন প্রজ্ঞাবান রাজনীতিক, বরেণ্য আইনজীবী এবং জননিবেদিত ব্যক্তিত্বকে হারালো। তিনি ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন এবং ব্যক্তি জীবনে অত্যন্ত বিনয়ী ও সাদাসিধে মানুষ।
অনুষ্ঠানে পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন মরহুমের ছেলে ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির। পরে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা ও দাফান অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, আত্মীয়-স্বজন, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
