অর্থনীতি বার্তা | অনলাইন ডেস্ক
বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকারি পরিচালন ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ এক পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে সরকারি গাড়ি ব্যবহার, জ্বালানি ব্যয়, সভা-সেমিনার, ভ্রমণসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমানোর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি জারি করা এই পরিপত্রে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারের সকল দপ্তর ও সংস্থাকে পরিচালন ব্যয় হ্রাসে কঠোরভাবে নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
পরিপত্র অনুযায়ী, সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ আপাতত বন্ধ থাকবে।
এছাড়া প্রশিক্ষণ ব্যয় ব্যতীত অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভা ও সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং সেমিনার/কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ কমাতে হবে। একই সঙ্গে ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে বলা হয়েছে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, সরকারি খাতে নতুন করে গাড়ি, জলযান, আকাশযান এবং কম্পিউটার ক্রয় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখতে হবে। সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারও ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
অন্যদিকে আবাসিক ভবনের শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ব্যয় শতভাগ বন্ধ রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ৯ এপ্রিল এই পরিপত্র জারি করে দেশের সব সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা এবং অর্থায়ন কৌশল পর্যালোচনা করা হয়।
ওই বৈঠকেই সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে অফিস সময় এক ঘণ্টা কমানো, দোকানপাট বন্ধের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ এবং সরকারি খাতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযম আনার মতো পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সরকারের এ উদ্যোগকে চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা গেলে সরকারি ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
