অর্থনীতি বার্তা ডেস্ক
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। সংগঠনটি মনে করছে, পুঁজিবাজার উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের গৃহীত সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলো সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ।
শনিবার (১৩ জুন) ডিবিএর পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন, পুঁজিবাজার সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সাহসী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকেও অভিনন্দন জানায় সংগঠনটি।
এক বিবৃতিতে সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অর্থায়নের জন্য একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও আস্থাভিত্তিক পুঁজিবাজার গড়ে তোলার যে অঙ্গীকার এবারের বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে, তা পুঁজিবাজারের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
তিনি বলেন, বাজেট বক্তৃতায় পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার যে সুস্পষ্ট নীতিগত ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, ডিবিএ তা গভীর সন্তুষ্টির সঙ্গে গ্রহণ করেছে।
ডিবিএর মতে, বাজেটে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালীকরণ, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, বাজারের সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বিকল্প উৎস হিসেবে বন্ড বাজারের সম্প্রসারণ, করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন বন্ড ও সুকুকের উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় কোম্পানির তালিকাভুক্তি সহজতর করা, তথ্য প্রকাশ ও রিপোর্টিং ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব করা এবং মিউনিসিপ্যাল বন্ড চালুর কাঠামো তৈরির উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সংগঠনটি।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের পরিবর্তে ইক্যুইটিভিত্তিক অর্থায়নের প্রসার এবং শক্তিশালী পুঁজিবাজারের মাধ্যমে বেসরকারি খাতনির্ভর বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা দেশের পুঁজিবাজারের বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরে আস্থার সংকট, সীমিত বিনিয়োগ পণ্য এবং ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের কারণে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারেনি। তবে এবারের বাজেটে পুঁজিবাজারকে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার যে নীতিগত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, নতুন উদ্যোক্তারা মূলধন সংগ্রহের সুযোগ পাবেন এবং কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে।
ডিবিএ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সরকার ঘোষিত সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার একটি আধুনিক, গভীরতা সম্পন্ন ও আস্থাভিত্তিক বাজারে পরিণত হবে এবং জাতীয় অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
তিনি পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন—সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউস, তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং বিনিয়োগকারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারকে একটি শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাজারে উন্নীত করার আহ্বান জানান।
