অর্থনীতি বার্তা | অনলাইন ডেস্ক
দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে গভীর সংকটের সতর্ক সংকেত দিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি আরও বহু কারখানা বর্তমানে আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
রোববার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ তথ্য তুলে ধরেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। সংকট উত্তরণে আসন্ন জাতীয় বাজেটে বিশেষ নীতি-সহায়তার দাবি জানান তিনি।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক—দুই পর্যায়েই নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে। বৈশ্বিক মন্দা, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও শুল্কের প্রভাবে রপ্তানি কমে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে আগের বছরের তুলনায় পোশাক রপ্তানি আয় ৩.৭৩ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী হওয়ায় অনেক কারখানা সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদনে চলছে, ফলে খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
সভায় বিজিএমইএ বেশ কিছু নীতি-সহায়তা প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে রয়েছে—
- নগদ সহায়তার ওপর ১০% আয়কর কর্তন অব্যাহতি
- রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর ১.০০% থেকে কমিয়ে ০.৬৫% করা (৫ বছরের জন্য)
- সোলার পিভি সিস্টেমের কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা
- ইটিপি ও অন্যান্য কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা প্রদান
সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে ঋণের সুদের হার ১২–১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গ্যাসের দাম ২৮৬ শতাংশ এবং গত পাঁচ বছরে বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালে ন্যূনতম মজুরি ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্টও বেড়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের ট্যারিফ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি প্রণোদনা কমে যাওয়াও খাতটিকে আরও চাপের মধ্যে ফেলেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি, বিটিএমএসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
