অর্থনীতি বার্তা ডেস্ক
জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত Chattogram-কে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক নগরীতে রূপান্তর করতে আইনগত, প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত বিষয়ে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, আমদানি–রপ্তানির কেন্দ্রবিন্দু এবং শিল্প–বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নগরী। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চট্টগ্রাম বন্দর দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামকে “বাণিজ্যিক রাজধানী” হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, তবে এ ঘোষণার পর বিষয়টি বাস্তবায়নে কোনো প্রশাসনিক আদেশ জারি হয়নি।
নির্বাচনী ইশতেহারে চট্টগ্রাম উন্নয়ন অগ্রাধিকার
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সরকার এটিকে আন্তর্জাতিক মানের বাণিজ্যিক রাজধানী এবং কর্মসংস্থানের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে।
সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা
তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে শুধু বন্দর উন্নয়নই যথেষ্ট নয়। এজন্য অর্থনীতি, অবকাঠামো, নগর ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ পরিবেশ, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সব ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আইনগত, প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা উন্নয়ন, কাস্টমস ও ডিজিটাল সেবা দ্রুততর করা, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং মাল্টিমোডাল পরিবহন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নাব্যতা বৃদ্ধি, পণ্য খালাস কার্যক্রম দ্রুততর করা, শিল্পাঞ্চল ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে দ্রুত পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা চালু ও আধুনিক লজিস্টিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা গেলে Chattogram-কে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে এবং চট্টগ্রাম নতুনভাবে বাণিজ্য ও শিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
