অর্থনীতি বার্তা | অনলাইন ডেস্ক
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দায়ীদের দেশে ফিরিয়ে আনা সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের খুনিদের ফিরিয়ে আনা আমাদের শপথ। আমরা এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেব না।”
শুক্রবার সকালে মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল আলম বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের সময় ফ্যাসিবাদী সরকার বহু শিক্ষার্থী ও নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে—এটি ছিল একটি রাষ্ট্রীয় গণহত্যা।”
তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। আমরা চাই তারা দেশে ফিরে এসে আইন অনুযায়ী তাদের আপিলের অধিকার ব্যবহার করুন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত তাদের রায় কার্যকর করা হবে।”
প্রেস সচিব উল্লেখ করেন, “যাদের হাতে রক্তের দাগ রয়েছে, তাদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এটি শহীদদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। আমরা ব্যর্থ হলে পরবর্তী প্রজন্ম এই দায়িত্ব পালন করবে।”
নির্বাচনের আগে লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা চলছে
নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে আমাদের হাতে প্রায় ৭০ দিনের মতো সময় আছে। আমরা জানি না এ সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ করতে পারব কি না, তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
তিনি বলেন, “সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য কাজ করছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে সব দলের সঙ্গে আলোচনা করেছে।”
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, “খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেতা নন, তিনি আমাদের জাতীয় নেতা। আমরা তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করি। তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন—এটাই আমাদের আশা।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) মো. আব্দুল কাদের, মাগুরা পৌর প্রশাসক ইমতিয়াজ হোসেন, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা বি.এম. সাজিন ইশরাত এবং ক্রীড়া সংগঠক বারিক ননজাম বার্কি।
