ঋণনির্ভরতা নয়, বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী

0 comments

অর্থনীতি বার্তা ডেস্ক

দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, শুধু নীতিমালা প্রণয়ন করলেই হবে না, সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে না।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ শিথিল বা ডি-রেগুলেশন জরুরি। এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা না গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। ফলে অর্থনীতি আবারও ঋণনির্ভরতার চক্রে আটকে পড়তে পারে।

তিনি জানান, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ-সংক্রান্ত নীতিমালার বাস্তবায়ন তদারকির জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। কোথাও নীতিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

সরকারি সেবা গ্রহণে কেউ হয়রানি বা ক্ষতির শিকার হলে সরাসরি অভিযোগ জানানোর জন্য একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালুর উদ্যোগের কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টাস্কফোর্স ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে প্রতিটি কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। কোনো কাজে অযৌক্তিক বিলম্ব হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

তৃণমূল পর্যায়ের সৃজনশীল ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি। উদাহরণ হিসেবে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী শীতল পাটির কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব পণ্যের আধুনিক নকশা উন্নয়ন এবং বাজারমূল্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজাইনিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমে বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কার্যালয়ে বিশেষ ড্যাশবোর্ড চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব বা ব্যর্থতার কারণ এবং দায়ী ব্যক্তিদের সহজেই শনাক্ত করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শুধু নীতিমালা প্রণয়নে সীমাবদ্ধ নেই, বরং দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের পরিকল্পনাগুলোর ৮০ শতাংশও যদি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক, অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

You may also like

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়:
৪৩/সি, মায়াকানন, ঢাকা – ১২১৪

ই-মেইল
editor.arthonitibarta@gmail.com
news.arthonitibarta@gmail.com

ওয়েবসাইট
www.arthonitibarta.com

Edtior's Picks

Latest Articles

Developed BY  Netfie.com