অর্থনীতি বার্তা ডেস্ক
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে কক্সবাজারের ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি দেশের সবার কাছে আহ্বান জানাব— আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, আপনার সন্তান যেন একটি সুন্দর পরিবেশে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে, এই বিষয়টি মাথায় রেখে আজ থেকে প্রত্যেকে যার যেখানে সম্ভব সেখানে একটি করে গাছের চারা রোপণ করবেন।”
তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সফল করা গেলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
“আমরা যদি এই বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে পারি, তাহলে আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঠিকভাবে বুক ভরে পরিষ্কার শ্বাস নিতে পারবে। আসুন, আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ার নিশ্চয়তা দেই; যেখানে তারা নিরাপদে বসবাস করতে পারবে,” যোগ করেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সরকার গঠন করতে পারলে দেশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালুর অঙ্গীকার করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে দেশের মানুষের কাছে আমরা যেসব ওয়াদা করেছিলাম, তার মধ্যে একটি ছিল দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করা। আমাদের লক্ষ্য বছরে অন্তত ৫ কোটি গাছ লাগানো। সেই অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে আমরা ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করব।”
সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। তাহলে আগামী দিনে বাংলাদেশের বাতাসকে আমরা আরও মুক্ত, পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ করতে পারব।”
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকা দেশের সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, নিজ নিজ জেলাকে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব অভয়ারণ্যে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন জেলার প্রশাসকরা সংযুক্ত আছেন। আপনাদের সবার কাছে আমার নির্দেশনা থাকবে— নিজ নিজ জেলাকে সুন্দর-সবুজ অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।”
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে সরকারপ্রধান আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নির্মল, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, “আমাদের ইচ্ছা ও প্রত্যাশা— আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বুক ভরে মুক্ত শ্বাস গ্রহণ করতে পারে, সে রকম একটি পরিবেশ আমরা গড়ে তুলতে পারব, ইনশাআল্লাহ।”
