অর্থনীতি বার্তা ডেস্ক
তাকওয়া শব্দের অর্থ ভয় করা, বিরত থাকা বা আত্মসংযম অবলম্বন করা। ইসলামের পরিভাষায় মহান আল্লাহর ভয় ও সন্তুষ্টির আশায় সব ধরনের গুনাহ, অন্যায় ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকার নামই তাকওয়া। যারা প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহকে ভয় করে পাপ থেকে নিজেদের দূরে রাখে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে সুসংবাদ ঘোষণা করেছেন মহান আল্লাহ।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, “এটা হলো সেই জান্নাত, আমি যার উত্তরাধিকারী বানাব আমার বান্দাদের মধ্যে তাদের, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে।” (সুরা মারিয়াম: ৬৩)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে, তাদের জন্যই সুসংবাদ রয়েছে দুনিয়ার জীবনে এবং আখিরাতেও। আল্লাহর বাণীর কোনো পরিবর্তন নেই। এটিই মহাসফলতা।” (সুরা ইউনুস: ৬৩-৬৪)
বর্তমান সমাজে মানুষকে তার অর্থসম্পদ, সামাজিক মর্যাদা কিংবা পেশাগত অবস্থান দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়। কিন্তু আল্লাহর কাছে মানুষের প্রকৃত মর্যাদার মাপকাঠি হলো তাকওয়া। কোরআনে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে, “তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাবান, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।” (সুরা হুজরাত: ১৩)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি কে? তিনি উত্তরে বলেন, “তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।” (সহিহ বুখারি: ৩৩৫৩)
মানুষ ও জিন জাতিকে আল্লাহ তায়ালা তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর তাকওয়াবান ব্যক্তিরাই প্রকৃত অর্থে সর্বোত্তম ইবাদতকারী। এক হাদিসে রাসুল (সা.) হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-কে উদ্দেশ করে বলেন, “হে আবু হুরায়রা! তুমি তাকওয়াবান হও, তাহলে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইবাদতকারী হতে পারবে।” (জামে তিরমিজি: ২৩০৫)
তাকওয়া মানুষের জীবনকে সহজ ও বরকতময় করে তোলে। আল্লাহ তায়ালা তাকওয়াবানদের জন্য এমনভাবে রিজিকের ব্যবস্থা করেন, যা তারা কল্পনাও করতে পারে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য নিষ্কৃতির পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে ধারণাও করতে পারে না।” (সুরা তালাক: ২-৩)
আরও ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় দান করে, তাকওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তমকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, আমি তার জন্য সহজ পথ সুগম করে দিই।” (সুরা লাইল: ৫-৭)
তাই একজন মুমিনের উচিত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহভীতি ও তাকওয়া অবলম্বন করা। কারণ তাকওয়াই মানুষকে গুনাহ থেকে রক্ষা করে, ইবাদতে দৃঢ়তা এনে দেয়, সম্মান বৃদ্ধি করে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে প্রকৃত সফলতার পথ খুলে দেয়।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রকৃত তাকওয়া অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।
