অর্থনীতি বার্তা ডেস্ক
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অতি দ্রুত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সরকারের লক্ষ্য হলো সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক নাগরিককে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এ লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উপজেলা হাসপাতাল উন্নয়ন নিয়ে বক্তব্য
মন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতার পর উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার ভিত্তি গড়ে তুলতে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়।
পরবর্তীতে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় এবং বর্তমান সরকারের উদ্যোগে উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন।
জনবল নিয়োগের অগ্রগতি
তিনি জানান, শূন্য পদ পূরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন বিসিএসের মাধ্যমে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে—
- ৪৫তম বিসিএস: ৪৫০ জন সহকারী সার্জন
- ৪৬তম বিসিএস: ১৬৮২ জন
- ৪৭তম বিসিএস: ১৩৩১ জন
- ৫০তম বিসিএস: ৬৫০ জন (প্রক্রিয়াধীন)
এছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্স ও মিডওয়াইফ পদে নিয়োগ কার্যক্রমও সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দ্রুত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
তিনি আরও জানান, কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন এলাকায় শূন্য পদে দ্রুত পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের অঙ্গীকার
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং একটি শক্তিশালী ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা।
