অর্থনীতি বার্তা | অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ডায়াবেটিস-এ আক্রান্ত। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৪৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় দুই কোটি ২০ লাখে পৌঁছাবে। এই প্রেক্ষাপটে নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দেশে আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ (পেনফিল) স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ও নভো নরডিস্ক বাংলাদেশ।
ডেনমার্ক থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে এই চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন বাস্তবায়িত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও-এ আয়োজিত ‘সাবাশ বাংলাদেশ: ডেনমার্ক থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে আধুনিক ইনসুলিনের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। আয়োজকরা এটিকে দেশের ডায়াবেটিস চিকিৎসা সহজলভ্য করা এবং বায়োলজিক ওষুধ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশে ইনসুলিন সরবরাহে অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নভো নরডিস্ক এতদিন নভোমিক্স ও নভোর্যাপিডসহ আধুনিক ইনসুলিন ডেনমার্ক থেকে আমদানি করে আসছিল। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় এখন একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব ইনসুলিন কার্ট্রিজ দেশেই উৎপাদন করা হবে।
এর ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইনসুলিনের প্রাপ্যতা বাড়বে এবং তুলনামূলকভাবে কম খরচে পাওয়া যাবে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রিমিক্স ও দ্রুত কার্যকর আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন করা হবে। দেশে উৎপাদিত প্রতিটি ব্যাচের গুণগত মান ডেনমার্কে যাচাই করা হবে, যাতে নভো নরডিস্কের বৈশ্বিক মান বজায় থাকে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “এই উদ্যোগ আমাদের উন্নত বায়োফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর অগ্রগতিকে তুলে ধরে। এটি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা নিশ্চিত করবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শামীম হায়দার বলেন, “জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ক্ষেত্রে গুণমান, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ইনসুলিনের মতো জটিল বায়োলজিক ওষুধের ক্ষেত্রে।”
বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার বলেন, “ডেনমার্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব রয়েছে, যা এই প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ় হলো।”
নভো নরডিস্ক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রিয়াদ মামুন প্রধানি জানান, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নভোমিক্স ও নভোর্যাপিড ইনসুলিনের দাম ১৮ শতাংশ কমানো হচ্ছে।
ট্রান্সকম লিমিটেড-এর গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান বলেন, “এই অর্জন প্রমাণ করে বাংলাদেশ উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণে প্রস্তুত এবং উচ্চমানের বায়োফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদনের একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে।”
উল্লেখ্য, নভো নরডিস্ক ১৯৫৭ সাল থেকে বাংলাদেশে ইনসুলিন সরবরাহ করছে। ২০১২ সাল থেকে তারা দেশে হিউম্যান ইনসুলিন ভায়াল উৎপাদন করছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। অন্যদিকে, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ১৯৯০ সাল থেকে দেশে উচ্চমানের ওষুধ উৎপাদন করে আসছে।
