অর্থনীতি বার্তা | অনলাইন ডেস্ক
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের আইনগত ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সুপরিকল্পিত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল রূপান্তর, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম, তথ্যনির্ভর শাসনব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের ফলে আইন পেশায় দ্রুত পরিবর্তন আসছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের আইনজীবীদেরও প্রস্তুত হতে হবে।
সোমবার (২৫ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনলাইনে আইনজীবীদের জন্য ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন (সিপিডি) প্রোগ্রাম এবং বার কাউন্সিলের ডিজিটাল বিএলডি প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন উপলক্ষে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, “প্রচলিত আইনি অনুশীলন এখন আর যথেষ্ট নয়। একটি আধুনিক, কার্যকর ও গণমুখী বিচারব্যবস্থা গড়তে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা এবং নৈতিক সক্ষমতা অর্জন অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও জানান, গত ১৬ মাসে বিচার বিভাগকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নেওয়া নানা উদ্যোগের ফলে বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইন, দেশের জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও বিভাগীয় আদালতে হেল্পলাইন সার্ভিস চালু, হাইকোর্টে দুটি পেপার-ফ্রি বেঞ্চ, ডিজিটাল অভিযোগ ব্যবস্থাপনা, স্বয়ংক্রিয় কজলিস্ট, দ্রুত মামলা প্রসেসিং সিস্টেম এবং পেপার-ফ্রি পারিবারিক আদালত চালু করা। এসব পদক্ষেপ বিচারব্যবস্থাকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও জনগণের কাছে সহজলভ্য করেছে।
বার কাউন্সিলের ডিজিটাল বিএলডি প্ল্যাটফর্মকে বিচার বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, এটি আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতার মানদণ্ড নির্ধারণ এবং গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একটি তথ্যসমৃদ্ধ বার কাউন্সিল আইন পেশার স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা এবং পেশাগত মান উন্নয়নে সহায়তা করবে।
এ ছাড়া তিনি বলেন, “সিপিডি কর্মসূচি আইনজীবীদের জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী। নিয়মিত জ্ঞান হালনাগাদ করলে যুক্তি উপস্থাপন আরও শক্তিশালী হয়, বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত হয় এবং আদালতের সময় সাশ্রয় হয়।” একজন দক্ষ আইনজীবী শুধু তার ক্লায়েন্টের জন্যই নয়, বরং একটি কার্যকর বিচারব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। স্বাগত বক্তব্য দেন বার কাউন্সিলের সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) মুহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
