অর্থনীতি বার্তা | অনলাইন ডেস্ক
জমকালো আয়োজনে মহান বিজয় দিবস-২০২৫ উদযাপনে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও মহড়া। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
১৬ ডিসেম্বর ভোরে ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা শ্রদ্ধা জানাবেন। বিদেশি কূটনীতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণও শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিসৌধে সমবেত হবেন।
দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি ভবন, বিদেশ মিশন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোকসজ্জা করা হবে। তবে ১৪ ডিসেম্বর রাতে আলোকসজ্জায় আলো জ্বালানো যাবে না।
এবার সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং করে বিশ্বরেকর্ড গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ৫৪ বছর উদযাপন উপলক্ষে ৫৪ জন প্যারাট্রুপার পতাকা হাতে আকাশ থেকে অবতরণ করবেন—যা গিনেস বুকে স্থান পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
বিজয় দিবসের দিন সকাল ১১টা থেকে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ফ্লাই পাস্ট, ব্যান্ড-শো ও বিভিন্ন প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। সারাদেশে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও বিএনসিসি’র বাদক দলও বাদ্য পরিবেশন করবে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তিন দিনব্যাপী বিজয়মেলা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সমাবেশ, কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে ও বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হবে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ১৫ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অ্যাক্রোবেটিক শো ও যাত্রাপালা ‘জেনারেল ওসমানী’ প্রদর্শনের আয়োজন করেছে। বিজয় দিবসে সেখানে পরিবেশিত হবে বিজয়ের গান; একই সময়ে দেশের ৬৪ জেলায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান পরিবেশিত হবে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কণ্ঠে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করবে। বিদেশ মিশনগুলোও অনুরূপ কর্মসূচি পালন করবে।
হাসপাতাল, জেলখানা, এতিমখানা, পথশিশু কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে। শিশু পার্ক, জাদুঘর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং সারা দেশের সিনেমা হলে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।
চট্টগ্রাম, খুলনা, মংলা, পায়রা ও বিভিন্ন নদীবন্দরে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও দেশের শান্তি-অগ্রগতি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
