অর্থনীতি বার্তা ডেস্ক
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রায় ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সড়ক উন্নয়ন, সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ অবকাঠামো উন্নয়ন, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষা খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা, আর সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় হবে ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ’, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ’ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আনোয়ারা-বাঁশখালী-পেকুয়া-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।
এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা সিএমএইচ ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।
শিক্ষা খাতে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট এবং দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন প্রকল্পের সংশোধিত সংস্করণ।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ খাতে বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবৃদ্ধি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, যা দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সভায় আরও জানানো হয়, পরিকল্পনামন্ত্রীর পূর্ব অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ছয়টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ডাকসেবা সম্প্রসারণ, শিশু বিয়ে প্রতিরোধ এবং কৃষি শিক্ষা উন্নয়ন সংক্রান্ত উদ্যোগ।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসেবা সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
