অর্থনীতি বার্তা ডেস্ক
দেশের কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন করে ৪৫ কোটি টাকার বেশি ঋণ সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে SME Foundation। ফাউন্ডেশনের রিভলভিং তহবিলের আওতায় পরিচালিত ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির মাধ্যমে এই অর্থ বিতরণ করা হবে।
এ লক্ষ্যে Mutual Trust Bank PLC, Dhaka Bank PLC এবং Karmasangsthan Bank-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Khandaker Abdul Muqtadir। সভাপতিত্ব করেন Abdun Naser Khan।
এসএমই ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, অর্থ বিভাগের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের সুদের হার হবে ৮ শতাংশ। এছাড়া বিদেশফেরত অভিবাসীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে International Labour Organization (আইএলও)-এর সহযোগিতায় কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হবে।
একজন উদ্যোক্তা সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। তবে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের উদ্যোক্তারা ৯ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন।
মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “রেমিট্যান্সকে উদ্যোক্তায়, উদ্যোক্তাকে বিনিয়োগে এবং বিনিয়োগকে কর্মসংস্থানে রূপান্তরের একটি টেকসই ভিত্তি নির্মাণে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি নারী, যুব, প্রত্যাগত অভিবাসী এবং প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের আওতায় আনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
ঋণ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণে কোনো জামানত প্রয়োজন হবে না।
- ঋণ পরিশোধের সর্বোচ্চ মেয়াদ ৪ বছর।
- গ্রাহক-ব্যাংক সম্পর্কের ভিত্তিতে ৬ মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড পাওয়া যাবে।
- সর্বোচ্চ ৪৮টি মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধের সুযোগ থাকবে।
- মোট তহবিলের কমপক্ষে ২৫% নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।
- ২০% তহবিল এসএমই ক্লাস্টারভুক্ত উদ্যোক্তাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
- ৩০% ঋণ ১০ লাখ টাকা বা তার কম পরিমাণে বিতরণ করতে হবে।
- মোট তহবিলের ৬০% উৎপাদনমুখী খাতে ব্যবহার করতে হবে।
রফতানিমুখী ও আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, আইসিটি ও প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন উদ্যোক্তা, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের ব্যবসায়ী, তৃতীয় লিঙ্গের উদ্যোক্তা এবং বিদেশফেরত অভিবাসীরা এই ঋণ সুবিধার আওতায় আসবেন।
এসএমই ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১৩ হাজার উদ্যোক্তার মধ্যে ১,২৫০ কোটিরও বেশি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯৯ শতাংশই সিএমএসএমই খাতভুক্ত এবং শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এই খাত থেকেই সৃষ্টি হচ্ছে।
