অর্থনীতি বার্তা | অনলাইন ডেস্ক
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির মুখে পড়েছে। দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এ খাতের রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে তৈরি পোশাক খাত থেকে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৩৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার।
ইপিবির তথ্য বলছে, বছরওয়ারি হিসাবে ২০২৬ সালের মে মাসে পোশাক রপ্তানি ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে যেখানে রপ্তানি আয় ছিল ৩ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০২৬ সালের মে মাসে তা নেমে এসেছে ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিটওয়্যার রপ্তানি মে মাসে ১ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ কম। একই সময়ে ওভেন পোশাক রপ্তানি ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বৈশ্বিক বাজারে চাহিদার ধীরগতি, ক্রয়াদেশের অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, “শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পণ্যের বৈচিত্র্য আনা এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণের ওপর জোর দিতে হবে।”
মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, গত বছরের রপ্তানি আয় ধরে রাখতে হলে আগামী মাসে অন্তত ৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। আর প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আয় প্রয়োজন হবে।
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এক মাসের মধ্যে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা কিছুটা কঠিন বলেই মনে হচ্ছে।”
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে ক্রেতাদের ব্যয় সংকোচন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে নতুন বাজার অনুসন্ধান, উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে এ খাত আবারও প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে পারে।
