অর্থনীতি বার্তা ডেস্ক
মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডকে বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তর বা অবসায়নের ক্ষেত্রে আপাতত আর কোনো আইনি বাধা নেই। কারণ, এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন Bangladesh Securities and Exchange Commission-এর নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম।
কী ছিল বিধিমালায়?
২০২৫ সালের নভেম্বরে জারি হওয়া মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার ৬২(২) ধারা অনুযায়ী—
- কোনো মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের বাজারদর যদি ক্রয়মূল্য বা নিট সম্পদমূল্যের (NAV) তুলনায় ২৫ শতাংশ বা তার বেশি কমে যায়,
- তাহলে ইউনিটহোল্ডারদের স্বার্থে ট্রাস্টি বিশেষ সাধারণ সভা (EGM) আহ্বান করতে পারে।
- সভায় উপস্থিত ভোটদাতা ইউনিটহোল্ডারদের কমপক্ষে তিন-চতুর্থাংশের সমর্থন এবং বিএসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে ফান্ডটিকে বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তর বা অবসায়ন করা যাবে।
কেন আদালতে গিয়েছিলেন ইউনিটহোল্ডাররা?
কিছু ইউনিটহোল্ডার দাবি করেন, ২০১৮ সালে সরকারি গেজেটের মাধ্যমে যেসব ক্লোজড-এন্ড ফান্ডের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল, সেগুলোর বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বাধ্যতামূলক রূপান্তরের উদ্যোগ তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।
এই যুক্তিতে তারা হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
হাইকোর্ট কী আদেশ দিয়েছিল?
গত ২১ মে হাইকোর্ট—
- বিএসইসির ৭ মে জারি করা নির্দেশনার কার্যকারিতা নিয়ে রুল জারি করে,
- মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০২৫-এর ৬২, ৬৩ ও ৬৪ নম্বর বিধির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে,
- এবং দুই মাসের জন্য ফান্ডগুলোর রূপান্তর ও অবসায়ন কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়।
এর ফলে বিভিন্ন ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে রূপান্তর প্রক্রিয়া স্থগিত করেছিল।
আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত
পরে Bangladesh Securities and Exchange Commission হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারপতি Farah Mahbub হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা আদেশ স্থগিত করেন।
ফলে বর্তমানে—
- মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০২৫-এর বিধান কার্যকর রয়েছে,
- বিএসইসির ৭ মে জারি করা নির্দেশনাও বহাল রয়েছে,
- এবং ইউনিটহোল্ডারদের ভোটের ভিত্তিতে মেয়াদি ফান্ডকে বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তর বা অবসায়নের প্রক্রিয়া আবার চালানো যাবে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য এর অর্থ কী?
যেসব ক্লোজড-এন্ড (মেয়াদি) মিউচুয়াল ফান্ড দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিট সম্পদমূল্যের তুলনায় বড় ডিসকাউন্টে লেনদেন হচ্ছে, সেসব ফান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এখন ইউনিটহোল্ডারদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফান্ডভেদে বিশেষ সাধারণ সভা (EGM) ডেকে রূপান্তর অথবা অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, অনেক ক্লোজড-এন্ড ফান্ড দীর্ঘদিন ধরে এনএভির তুলনায় ৩০–৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্টে লেনদেন হওয়ায় এই বিধান বাস্তবায়ন হলে বিনিয়োগকারীদের জন্য মূল্য উন্মোচনের (value unlocking) সুযোগ তৈরি হতে পারে।
