অর্থনীতি বার্তা | অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন) কাছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিপুল অঙ্কের বকেয়া জমেছে বলে জানা গেছে। জাহাজ মাশুল, জায়গার ভাড়া ও ভ্যাট মিলিয়ে মোট বকেয়া ১০০ কোটি টাকারও বেশি।
সূত্র অনুযায়ী, শুধু জাহাজ মাশুল (পোর্ট চার্জেস) বাবদ বকেয়া রয়েছে ৭৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এছাড়া জায়গার ভাড়া বাবদ ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা এবং ভ্যাট বাবদ ১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ-এর।
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বিএসসিকে এক সপ্তাহের মধ্যে ৪৩ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা পরিশোধ করেনি। পরবর্তীতে ৭ এপ্রিল পুনরায় তাগিদ দিয়ে চিঠি পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিএসসির কাছ থেকে ভ্যাট বাবদ পাওনা আদায় না হওয়ায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) পাওনা পরিশোধেও জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, ২০১৩ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সময় জাহাজ ভাড়া কমে যাওয়ায় বিএসসিকে পোর্ট চার্জেসে ছাড় দেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পরেও সেই বকেয়া পরিশোধ না করায় বিষয়টি এখন বড় আর্থিক চাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
‘এমটি বাংলার জ্যোতি’ ও ‘এমটি বাংলার সৌরভ’ জাহাজ স্ক্র্যাপ করার সময় বিএসসি কিস্তিতে টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করলেও পরবর্তীতে তা বাস্তবায়ন করেনি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বিএসসি জায়গা ব্যবহার করলেও নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করছে না, অথচ ওই জায়গার পৌরকর বন্দরকেই বহন করতে হচ্ছে, যা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
বিএসসির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বিএসসি গত অর্থবছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব এবং ৩০৬ কোটি টাকার বেশি নিট মুনাফা অর্জন করেছে। তবুও বকেয়া পরিশোধ না করায় এখন বিষয়টি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে।
