অর্থনীতি বার্তা | অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ ব্যাংকের চলমান সংস্কারের ফলে ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে গোপন থাকা খেলাপি ঋণগুলো এখন প্রকাশ্যে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) তিনি এ মন্তব্য করেন। ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আগে অসংখ্য ঋণ নিয়মিত হিসেবে দেখানো হতো বা গোপন রাখা হয়েছিল। সংস্কার কার্যক্রমের ফলে সেগুলো এখন প্রকাশ পাচ্ছে। তাই হঠাৎ করে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কারই মূল কারণ
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বড় ধরনের সংস্কার চালাচ্ছে। এর ফলে যে ঋণগুলো আগে খেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি বা সচেতনভাবে আড়াল করা হয়েছিল—এখন সেগুলো প্রকৃত অবস্থায় দেখানো হচ্ছে।
এজন্য খেলাপি ঋণ বাড়ছে বলে মনে হলেও এটি নতুন ঋণ খেলাপির কারণে নয়, বরং পুরোনো গোপন ঋণের হিসাব প্রকাশের ফল।
যে সংস্কারগুলো চলছে
তিনি জানান, ব্যাংকিং খাতের সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
-
ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি
-
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা শক্তিশালী করা
-
দুর্বল ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণ
-
সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (AMC) গঠন
-
ঋণখেলাপিদের সম্পদ জব্দ ও বিক্রি
-
পুঁজিবাজারে খেলাপিদের শেয়ার জব্দ
-
সামগ্রিক কঠোর নজরদারি
ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদার
ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ইতোমধ্যে বহু গ্রাহকের সম্পদ জব্দ করা হচ্ছে, শেয়ার আটকে দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে।”
তিনি মনে করেন, এসব সংস্কার শক্তভাবে প্রয়োগ করা গেলে ব্যাংক খাতের স্বাস্থ্য ফিরবে এবং ধীরে ধীরে খেলাপি ঋণও কমে আসবে।
স্বচ্ছতার ইতিবাচক প্রমাণ
তিনি বলেন, “খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাওয়া এক অর্থে ইতিবাচক—কারণ এটি ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতার নতুন যুগের সূচনা। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন প্রকৃত চিত্র সামনে আনছে।”
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
