অর্থনীতি বার্তা | অনলাইন ডেস্ক
দেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে হাম। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ও এর বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩০৩ জন শিশু।
শুক্রবার (১৫ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত দুই মাসে দেশে হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫১ জনে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি হিসেবে দেখছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯২ জন এবং পরীক্ষাগারে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১১১ জন শিশু।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ৬১১ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে ৭ হাজার ৪১৬ জনের সংক্রমণ। একই সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন ৪০ হাজার ১৭৬ জন রোগী এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৬ হাজার ৫৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১২ শিশুর মধ্যে ৮ জন সন্দেহজনক হামের উপসর্গে এবং ৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত দুই মাসে মোট মৃতদের মধ্যে ৩৭৭ জন সন্দেহজনক হামে এবং ৭৪ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে সংক্রমণের তীব্রতা বেশি হওয়ায় সেখানকার হাসপাতালগুলোতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার রোধে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, শিশুদের জ্বর, ফুসকুড়ি বা হামের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছেন। তবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।
