অর্থনীতি বার্তা ডেস্ক
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে প্রায় ৩৬ দশমিক ০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে এবং আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলা ও বৈদেশিক লেনদেন পরিচালনায় সামগ্রিকভাবে কোনো ডলার সংকট নেই।
রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম জানতে চান, ডলার ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটের কারণে অনেক ব্যাংক সময়মতো এলসি খুলতে পারছে না। ফলে শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে বিঘ্ন ঘটছে। এ পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারের পরিকল্পনা কী—এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান তিনি।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই রিজার্ভ মূলত সরকারের বৈদেশিক দায়-দেনা পরিশোধ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যবহৃত হয়।
তিনি জানান, রিজার্ভের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত ক্লিয়ারিং অ্যাকাউন্ট, বিদেশি নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট এবং নগদ বৈদেশিক মুদ্রা মিলিয়ে অতিরিক্ত প্রায় ২.১৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো রপ্তানি আয়, প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এবং অন্যান্য বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার উৎস থেকে নিজেদের চাহিদা পূরণ করে থাকে। আমদানি ঋণপত্র খোলা এবং আমদানি বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত নেট ওপেন পজিশন (NOP) সীমা অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে।
তিনি বলেন, কোনো ব্যাংকের নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি দেখা দিলে তারা আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজার থেকে প্রয়োজনীয় ডলার সংগ্রহ করতে পারে।
অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে এবং বিনিময় হারও স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে দেশে ডলার বাজার স্বাভাবিক রয়েছে এবং এলসি খোলা বা বৈদেশিক লেনদেন পরিচালনায় কোনো সার্বিক ডলার সংকট নেই।
