অর্থনীতি বার্তা ডেস্ক
টানা ভারী বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা এবং জলাবদ্ধতার কারণে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম ও এর সঙ্গে সংযুক্ত সড়ক এবং রেল যোগাযোগব্যবস্থায় সৃষ্ট অচলাবস্থায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পখাতের কোটি কোটি টাকার পণ্য পরিবহন ও রপ্তানি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং শিল্প ও বাণিজ্য খাতের ক্ষতি কমাতে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে ৯ দফা দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরেছে দেশের শীর্ষ চার ব্যবসায়ী সংগঠন।
রোববার (১২ জুলাই) যৌথভাবে পাঠানো এক আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি হাসান মাহমুদ বাবু, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
চিঠিতে ব্যবসায়ী নেতারা জানান, গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড এবং বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে পানি ঢুকে বিপুলসংখ্যক কনটেইনার ও পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তারা আরও উল্লেখ করেন, গত ১০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষতিপূরণের দায় অস্বীকার করায় ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বন্দরে দীর্ঘ সময় কনটেইনার আটকে থাকায় আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের অতিরিক্ত ডেমারেজ, ডিটেনশন এবং পোর্ট রেন্ট পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
- চট্টগ্রাম বন্দর এবং সংশ্লিষ্ট সড়ক ও রেল যোগাযোগ দ্রুত সম্পূর্ণ সচল করা।
- বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে বিশেষ কমিটি গঠন।
- ডেমারেজ, ডিটেনশন ও পোর্ট রেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিক মওকুফ এবং নতুন চার্জ আরোপ স্থগিত রাখা।
- কাঁচামাল, খাদ্য, ওষুধ ও পচনশীল পণ্যের জন্য বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স চালু।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অটোমেশনের মাধ্যমে বাণিজ্য কার্যক্রম দ্রুততর করা।
- এলসি, শিপমেন্ট ও বাণিজ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার।
- গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা।
- কাস্টমস শুল্ক, ভ্যাট ও বিভিন্ন বিল পরিশোধে জরিমানা ও সারচার্জ মওকুফ।
- ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) পুনর্বাসনে বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠন এবং দ্রুত আর্থিক ও কাস্টমস সুবিধা প্রদান।
এছাড়া ব্যবসায়ী নেতারা বাণিজ্য, অর্থ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেন।
তাদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় একটি সমন্বিত ন্যাশনাল ট্রেড কন্টিনিউটি ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন এবং নতুন কনটেইনার ডিপো ও শুষ্ক বন্দর নির্মাণে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এতে দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সহনশীল হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সম্ভাব্য ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।
