অর্থনীতি বার্তা ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন এখন বাস্তবতার খুব কাছাকাছি বাংলাদেশ দলের। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডেতে ৮৬ রানের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে টাইগাররা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আবারও মুখোমুখি হবে দুই দল। এই ম্যাচে জয় পেলেই ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নেবে বাংলাদেশ।
প্রথম ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এক স্মরণীয় দিন। দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে হারায় টাইগাররা। ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে বিধ্বস্ত করেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। চার উইকেট শিকার করে জয়ের অন্যতম নায়ক বনে যান তিনি।
ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। এছাড়া তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ৯৬ রানের উদ্বোধনী জুটি বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়।
প্রথম ম্যাচের জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের দল এখন সিরিজ জয়ের দ্বারপ্রান্তে। তবে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম জয়ের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আত্মতুষ্টিতে না ভোগা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলা চালিয়ে যাওয়া।
অন্যদিকে, বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া সহজে হাল ছাড়ার দল নয়। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং— তিন বিভাগেই ব্যর্থতার পরিচয় দেওয়া অজিরা দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। বিশেষ করে একাধিক ক্যাচ মিস ও ফিল্ডিং ভুল তাদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল।
বাংলাদেশ শিবিরে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলেও কৌশলগত কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া দলে একাধিক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যাতে দলটির ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করা যায়।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার গতি এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিং প্রথম ম্যাচে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। দ্বিতীয় ম্যাচেও তাদের ওপরই থাকবে বড় প্রত্যাশা।
ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য কার্যত ‘ডু অর ডাই’। কারণ আজ হারলেই সিরিজ হাতছাড়া হয়ে যাবে। আর বাংলাদেশ জিতলে সেটি হবে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের আরেকটি গৌরবময় অধ্যায়।
মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত বলেছেন, দল যদি নিজেদের পরিকল্পনা ও প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখে, তাহলে সিরিজ জয় সম্ভব। পুরো দলই এখন সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, টাইগাররা ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা করতে পারে কি না, নাকি সিরিজে সমতা ফিরিয়ে আনে অস্ট্রেলিয়া।
